নিজে শিখি: কেন নিজে শেখাই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জ্ঞান। কিন্তু এই জ্ঞান তখনই শক্তিতে পরিণত হয়, যখন মানুষ নিজ উদ্যোগে, নিজ দায়িত্বে এবং নিজ আগ্রহে তা অর্জন করে। অন্যের ওপর নির্ভর করে শেখা আর নিজে শেখার মধ্যে আকাশ–পাতাল পার্থক্য রয়েছে। “নিজে শিখি” শুধু একটি ওয়েবসাইটের নাম নয়, এটি একটি দর্শন, একটি জীবনব্যবস্থা এবং একটি চিন্তাধারা।

আজকের পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তনশীল। যে জ্ঞান আজ আধুনিক, কালই তা পুরনো হয়ে যায়। এই পরিবর্তনের সাথে টিকে থাকতে হলে মানুষের সবচেয়ে বড় যে শক্তিটি প্রয়োজন, তা হলো নিজে শেখার সক্ষমতা। যে ব্যক্তি নিজে শিখতে জানে, সে কখনো পিছিয়ে পড়ে না। পরিবেশ বদলালেও, পেশা বদলালেও, প্রযুক্তি বদলালেও সে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে নিতে পারে।

নিজে শেখা মানে শুধু বই পড়া নয়। নিজে শেখা মানে নিজের ভেতরের প্রশ্নকে জাগ্রত করা।
“কেন এমন হলো?”
“আর কীভাবে ভালো করা যায়?”
“এর গভীরে কী আছে?”
এই প্রশ্নগুলোই মানুষকে সাধারণ থেকে অসাধারণ করে তোলে।

যে মানুষ নিজে শেখে, সে অন্যের দয়া বা নির্দেশনার জন্য বসে থাকে না। সে নিজেই নিজের শিক্ষক, নিজেই নিজের গাইড। এতে মানুষের ভেতরে আত্মবিশ্বাস জন্মায়। আত্মবিশ্বাস থেকেই জন্ম নেয় আত্মনির্ভরতা। আর আত্মনির্ভরতা হলো সফল জীবনের মূল চাবিকাঠি।

ইসলামও আমাদেরকে প্রথম দিন থেকেই শেখার প্রতি আহ্বান করেছে। কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ শব্দই ছিল:
“ইক্বরা” – পড়ো।
এটি শুধু পড়ার আদেশ নয়, এটি চিন্তা করার, জানার, বোঝার এবং উপলব্ধি করার নির্দেশ। ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে ইবাদতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কারণ জ্ঞান মানুষকে আলোর পথে নিয়ে যায়, অজ্ঞতা মানুষকে অন্ধকারে রাখে।

নিজে শেখা মানে নিজের জীবনকে আলোকিত করা।
নিজে শেখা মানে নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া।
নিজে শেখা মানে অন্যের সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া, কিন্তু নিজের পথ নিজে তৈরি করা।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় আমরা অনেক সময় শুধু পরীক্ষার জন্য পড়ি, সার্টিফিকেটের জন্য পড়ি। কিন্তু নিজে শেখার দর্শন এর চেয়ে অনেক বড়। এখানে লক্ষ্য নম্বর নয়, লক্ষ্য মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। চিন্তাশীল, নৈতিক, সচেতন ও আত্মমর্যাদাশীল মানুষ হওয়া।

নিজে শেখা মানুষকে তিনটি বড় শক্তি দেয়:

১. চিন্তার স্বাধীনতা
নিজে শেখা মানুষ অন্যের মতের অন্ধ অনুসরণ করে না। সে যাচাই করে, বিশ্লেষণ করে, তারপর সিদ্ধান্ত নেয়।

২. সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা
যে নিজে শেখে, সে সমস্যা এলে ভয় পায় না। কারণ সে জানে, প্রতিটি সমস্যার ভেতরেই সমাধানের বীজ লুকিয়ে থাকে।

৩. পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার শক্তি
বিশ্ব বদলাবে, পেশা বদলাবে, প্রযুক্তি বদলাবে—কিন্তু যে নিজে শিখতে পারে, সে কখনো পরাজিত হবে না।

“নিজে শিখি” প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য হলো একটি এমন প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা মুখস্থবিদ্যায় নয়, উপলব্ধিতে বিশ্বাসী হবে। যারা প্রশ্ন করতে ভয় পাবে না, সত্য খুঁজতে ক্লান্ত হবে না, এবং শেখাকে জীবনের আজীবন সঙ্গী বানাবে।

আমরা বিশ্বাস করি,
শিক্ষক শেখান,
বই পথ দেখায়,
কিন্তু মানুষকে মানুষ করে তোলে তার নিজের শেখার ইচ্ছা।

নিজে শেখা মানে নিজের ভেতরের শক্তিকে জাগ্রত করা।
নিজে শেখা মানে নিজের জীবনকে নিজের হাতে গড়া।
নিজে শেখা মানেই প্রকৃত স্বাধীনতা।

এই দর্শন নিয়েই “নিজে শিখি” পথচলা শুরু করেছে।
এটি শুধু শেখার জায়গা নয়, এটি চিন্তার, পরিবর্তনের ও আত্মউন্নয়নের একটি নিরব আন্দোলন।